ছ্যাঁকা
অমিতাভ দাস
তনুময় আমাদের বন্ধু। সে খুব নাস্তিক প্রকৃতির। বিশেষ একটি
রাজনৈতিক দলের সদস্য। মানুষের কথা ভাবে। মানুষের কথা বলে। সমাজমনস্ক। ভাষণে ও
লেখার মধ্য দিয়ে সাম্যের কথা তোলে— শ্রেণিহীন
সমাজের কথা বলে। মন্দির-মসজিদ-গীর্জায় যায় না। আমরাও কিছু বলি না। আমি ঘোর আস্তিক।
তবে আমার ধর্মবিশ্বাসে সে আঘাত করে না। সে আমাদের সঙ্গে বেড়াতে গেলে পাহাড়ে যায়, সমুদ্রে যায়। যদি বলি, ‘বৃন্দাবন যাব’, সে বলবে , ‘না’। ‘কেদারনাথ যাব।’ সে
বলবে, ‘যেতে পারি, তবে তীর্থ করতে নয়— পাহাড় দেখতে, প্রকৃতিকে কাছ থেকে দেখতে।’ এভাবেই দিন যায়। তীর্থে সে যায়নি
কখনও। আমরাই গিয়েছি বারবার। সেদিন চায়ের দোকানে চা শেষ করে আমরা তিনজন তিনটে
সিগারেট নিয়েছি ঠোঁটে। তনুময় দেশলাই জ্বাললে। নিজে সিগারেট ধরিয়ে আমার মুখের সামনে
ধরল। যেই সৃঞ্জয় ধরাতে গেল, ও কাঠিটা নিভিয়ে দিল। বললে,
‘এক কাঠি থেকে তিনটে সিগারেট জ্বালাতে নেই। অকল্যান হয়।’। সৃঞ্জয়
হাসতে-হাসতে বললে, ‘তুই তো এসব মানিস না— বলিস কুসংস্কার। তাহলে?’ তনুময় বললে আমতা-আমতা করে, ‘না— মানে, কাঠিটার আগুন আঙুলের কাছে চলে এসেছিল, তাই।
একটু হলেই ছ্যাঁকা খেতাম... আসলে কিছুই নয়, অভ্যাস।’ বললাম,
‘ধানাই-পানাই বলিস না। এদিকে বলিস নাস্তিক অথচ বিয়ে তো করেছিলি
শাস্ত্রমতে মন্ত্র পড়ে।’ তনুময় বললে, ‘কী মন্ত্র পড়েছি কিছুই
মনে নেই। কখনও বা পড়িওনি। চুপ করে ছিলাম।’ এইভাবে কথা চলতে-চলতে কখন যেন সিগারেট
শেষ হয়েছে। এইবার নিজের অজান্তেই যেন ছ্যাঁকা খেলাম ঠোঁটে। তনুময় বললে, ‘সব কুসংস্কার বলে উড়িয়ে দিলে হবে না। কিছু কিছু সংস্কার সেই বেদের যুগ
থেকেই রয়ে গেছে মানব-জীবনে। তাকে অস্বীকার করি কীভাবে?’
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন