শনিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২২

অণুগল্প: যুগান্তর মিত্র

অণুগল্প

যুগান্তর মিত্র

শিল্পী

বাবা কিছুতেই বিপিনকাকুর সঙ্গে মিশতে দেয় নাঅথচ আমার মিশতে ভালো লাগে। বিপিনকাকুই আমাকে প্রথম চা-দোকান চিনিয়েছে। নিত্যানন্দ সেলুনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে ঘোরানো চেয়ারে বসে চুল কাটাতেও শিখেছি।

তোকে কতবার বলি, ওর সঙ্গে মিশবি না! শুনিস না কেন? বাবার অনুযোগে আমি চুপ করে থাকি। বাবা ইঙ্গিতে বুঝিয়েছে বিপিনের কাজকারবার পছন্দ নয়। কেন যে পছন্দ নয়, বুঝতে পারি না।

তুলির টানে চমৎকার দেয়াল লেখে বিপিনকাকু! সাইকেলে চেপে ঘুরে-ঘুরে দেখি সেসব। প্যাডেলে পা-চালিয়ে ক্লান্ত হই, তবু দেখেই যাই।

যখন যে দল ডাকে, সেই দলের দেয়াল লিখি। দলের বাছবিচার করি না, বুঝলি! টাকা পেলেই হল। বিপিনকাকুর যুক্তি আমার ভালো লাগে।

‘দুর্নীতিবাজ ক-দলকে একটি ভোটও দেবেন না’ লেখে অতি যত্নে। সেই দলের চিহ্ন এঁকে রঙিন অক্ষরে লিখে দেয় খ-দলকে ভোটের আবদার। পরের দিনই লিখে ফেলে, ‘সাম্প্রদায়িক খ-দল হঠাও, দেশ বাঁচাও’। দেশ না-বাঁচলেও ক্ষতি নেই, বিপিনকাকুর পকেট বেঁচে থাকে। সেই টাকা থেকে চা, বাপুজি কেক, ঘুগনি, সেদ্ধ ডিম, অমলেট খাওয়ায় আমাকে। দেয়াল-লিখনের কারুকাজে মুগ্ধতা বেড়ে যায় আমার। জয়গুরু চানাচুরের বিজ্ঞাপন লেখে যে-দেয়ালে, তার বিপরীত দেয়ালে লেখে সুরুচি ঝুরিভাজার গুণগান।

আমাকে নিয়ে হতাশায় বাবার মাথা ঝুঁকে পড়ে, মায়ের চোখের নীচে জমা হয় কুয়াশা। আমি তখন নিজের ঘরে বসে বিপিনকাকুর মতো লেখা অনুশীলন করি। সামনে ছড়িয়ে থাকে নানা আকারের তুলি, রঙের কৌটো আর বাটিতে বাটিতে জল...


শিল্পী: চন্দন মিশ্র 



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

কথাসাহিত্যিক নলিনী বেরার সাক্ষাৎকার, নিয়েছেন অন্তরা চৌধুরী

  প্রত্যেকটা উপন্যাসই আত্মজৈবনিক :   নলিনী বেরা                    ( নলিনী বেরার সাক্ষাৎকার, নিয়েছেন অন্তরা চৌধুরী) বাংলা কথাসাহিত্যে নলিনী...