মৃন্ময় গোস্বামী
মা
মা: দু-দিন পরই তো তোর
বিয়ে। বিয়ের পর যেখানে যাবি, সেটার নাম কিন্তু
শ্বশুরবাড়ি। ওটা যে-সে জায়গা নয়। একটা কথা মন দিয়ে শুনে রাখ, ওখানে গিয়ে সুকৌশলে
সংসারের চাবিটা দখলে নিবি। এটা কিন্তু তোর একক লড়াই। সোনাগয়না যা দিচ্ছি, সব
নিজের হেফাজতে রাখবি। যে লড়াইয়ের ময়দানে তুই পা রাখছিস, ওই
লড়াইয়ে কিন্তু গুলিগোলা চলে না। কিন্তু বাস্তবটা হল, ওটাই পৃথিবীর ভয়ঙ্কর
যুদ্ধক্ষেত্র।
মেয়ে
শ্বশুরবাড়ি চলে গেল। সামাজিক রীতিনিয়ম শেষ হয়ে গেলে শ্বাশুড়ি
নতুন বউকে কোলের মধ্যে টেনে নিয়ে নিজের আঁচল থেকে সংসারের ছবির গোছা নতুন বউয়ের
আঁচলে বাঁধতে-বাঁধতে বললেন, দীর্ঘদিন আগে মাকে হারিয়ে বহুদিন ধরে মায়ের
দায়িত্ব পালন করছি। নিজের স্বামীকে কাছে টেনে নিয়ে শ্বাশুড়ি বললেন, আজ
থেকে আমরা দুজন মা পেলাম। এবারে ক্ষিদে পেলে কাঁদব। তারপর একটা সুদৃশ্য গয়নার
বাক্স বৌমার হাতে তুলে দিয়ে বললেন, সংসারের লক্ষ্মী আজ
থেকে তোমার হাতে তুলে দিলাম।
বৌমার
গলার কাছে দলা পাকিয়ে আসে। দু-চোখের পাতা ভিজে যায়।
মেয়ে
দ্বিরাগমনে বাপের বাড়ি পৌঁছনোর কিছুক্ষণ পর মেয়েকে বাড়ির নির্জন এক জায়গায় নিয়ে
গিয়ে মা বলেন, যা বলেছি, ঠিক সেভাবে চলছিস তো?
মেয়ে মায়ের চোখে চোখ
রেখে বলে, মা, ভরসা দিতে না-পারো ঠিক আছে, কিন্তু
অহেতুক ভয় দেবে না।
| শিল্পী: চন্দন মিশ্র |
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন